হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখ বন্ধ রাখা নিয়ে বিতর্ক: বিরোধীদের সমালোচনা ও হোয়াইট হাউসের প্রত্যাখ্যান

হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখ বন্ধ রাখা নিয়ে বিতর্ক: বিরোধীদের সমালোচনা ও হোয়াইট হাউসের প্রত্যাখ্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সরকারি সংবাদ সম্মেলন চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখ বন্ধ করে থাকার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই ঘটনাকে ‘তন্দ্রাচ্ছন্নতা’ বলে আখ্যায়িত করে তীব্র সমালোচনা করছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শারীরিক সুস্থতা এবং কগনিটিভ বা মানসিক সক্ষমতার বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত ‘ক্লিন কোল’ বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) প্রশাসক লি জেলডিন এবং ইন্টেরিয়র সেক্রেটারি ডগ বারগাম যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার আসনে হেলান দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা যায়। ডেমোক্র্যাট শিবির ও লিবারেল রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যঙ্গাত্মক উপাধিতে ভূষিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার শুরু করে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনাটিকে উপহাস করে পোস্ট করা হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন রাজনীতিতে এই ধরণের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে তার প্রতিপক্ষরা প্রায়শই ‘স্লিপি জো’ বলে কটাক্ষ করতেন। ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্টের এই চোখ বন্ধ রাখার ঘটনাকে বিরোধী শিবির রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ হাতছাড়া করেনি। মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি এখন দুই দলের মধ্যে একে অপরকে দুর্বল দেখানোর একটি নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অত্যন্ত জোরালোভাবে খণ্ডন করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের র‍্যাপিড রেসপন্স টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রচারিত ভিডিও ক্লিপগুলো আংশিক এবং বিভ্রান্তিকর। প্রশাসনের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনোযোগ দিয়ে বক্তব্য শুনছিলেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে তার চোখ খোলাই ছিল। এর আগেও গত মে মাসে একই ধরণের একটি ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট কেবল চোখের পাতা পিটপিট করছিলেন, যা কোনোভাবেই ঘুমিয়ে পড়া নয়। হোয়াইট হাউস এই ধরণের প্রচারণাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।

এই রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যগত বিষয়টিও সামনে এসেছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির সাবেক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জোনাথন রেইনার এই ঘটনাকে সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এভাবে চোখ বন্ধ থাকা বা মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হওয়া প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টের বাইরের কোনো শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ টেড লিউ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য ও কগনিটিভ টেস্ট বা মানসিক সক্ষমতা যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন। তিনি ক্যাবিনেট মিটিং ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রেসিডেন্টের ঘুমিয়ে পড়ার দাবি অস্বীকার করেন এবং জানান যে প্রেসিডেন্ট সার্বক্ষণিক অত্যন্ত সক্রিয় থাকেন।

রাজনৈতিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত এই নানামুখী বিতর্কের বিপরীতে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ড. শন বারবাবেলা সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি বিশদ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী। তার হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং স্নায়বিক অবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টের বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা সবসময়ই একটি সংবেদনশীল ও কৌশলগত ইস্যু, যা আগামী দিনগুলোতেও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বজায় থাকবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ