কচুক্ষেতে পোশাক কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যানজটে ভোগান্তি

কচুক্ষেতে পোশাক কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যানজটে ভোগান্তি

অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা ডেস্ক

রাজধানী ঢাকার কচুক্ষেত এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। এর ফলে ওই এলাকার প্রধান সড়কে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ব্যস্ততম সকালে এই অবরোধের কারণে অফিসগামী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ তীব্র যানজটের মুখে পড়েন এবং চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর ও সেনানিবাস এলাকার সংযোগস্থল কচুক্ষেতের তামান্না কমপ্লেক্সে অবস্থিত একটি পোশাক কারখানা আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সকালে শ্রমিকরা কাজে এসে কারখানাটি বন্ধ দেখতে পান। এর প্রতিবাদে এবং চাকুরি ও বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে তারা প্রথমে সড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন শুরু করেন। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তেজিত শ্রমিকরা সড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিলে যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।

যেহেতু ঘটনাটি সকালের কর্মব্যস্ত সময়ে ঘটেছে, তাই মিরপুর, সেনানিবাস এবং বনানী-গুলশান অভিমুখী সড়কে মুহূর্তের মধ্যে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। বিশেষ করে অফিস ও স্কুল-কলেজগামী যাত্রীরা দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে বাধ্য হন। তীব্র গরমের মধ্যে নারী, শিশু এবং অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। গণপরিবহন না পেয়ে অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ট্রাফিক পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার তানিয়া সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারখানা বন্ধের খবরে শ্রমিকরা সড়কে নেমে এলে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং মালিকপক্ষের সাথে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

সকাল সাড়ে ১০টার পর শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে কারখানাটি কেন এবং কী প্রক্রিয়ায় বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মালিকপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ