মাদারীপুরে থানা থেকে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা: পুলিশের বাধা ও ৫ জন আটক

মাদারীপুরে থানা থেকে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা: পুলিশের বাধা ও ৫ জন আটক

অপরাধ ডেস্ক

মাদারীপুর সদর থানায় নিয়ে আসা দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে থানা এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মাদারীপুর জেলা শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অভিযান চালায় সদর থানা পুলিশের একটি দল। অভিযানে শহরের বাদামতলা এলাকার সবুজ এবং নতুন মাদারীপুর এলাকার আরিফ চৌকিদার নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক সবুজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরিফ চৌকিদারকে কোন অপরাধে আটক করা হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলে স্থানীয় বেশ কিছু তরুণ ও যুবক পুলিশের পথ গতিরোধ করেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে আরিফের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখতে চান। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সাথে স্থানীয়দের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয় এবং দুই আসামিকে উদ্ধার করে দ্রুত মাদারীপুর সদর থানায় নিয়ে আসে।

থানা পুলিশ জানায়, আসামিদের ধরে নিয়ে আসার সময় এবং পরবর্তীতে থানায় প্রবেশের মুখে পুলিশের সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম বাধা সৃষ্টি করা হয়। এই অপরাধে ঘটনাস্থল ও তার আশপাশ থেকে পাঁচজনকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—নতুন মাদারীপুর এলাকার শান্ত ঢালী (২০), সালমান ঢালী (১৯), আবির ঢালী (১৯), আজিম ঢালী (১৮) এবং সাহেব বেপারী (১৭)।

এদিকে প্রথম দফায় আসামি ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর, গভীর রাতে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের স্বজন ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ মাদারীপুর সদর থানার সামনে জড়ো হওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় তারা থানা প্রাঙ্গণের বাইরে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাদারীপুর সদর থানা এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুরো থানা এলাকা ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলেন, যার ফলে আসামিপক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এই ঘটনার সার্বিক বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিয়া রফিক ভাবনা সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আরিফ ও সবুজ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাদের গ্রেফতারের পর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে থানা ও আশপাশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মাদারীপুর সদর থানা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম দফায় গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি এবং পরবর্তীতে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে আটক হওয়া পাঁচ যুবক—সবার বিরুদ্ধেই দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে মাদারীপুর শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো নতুন উত্তেজনা প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ