রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রমনা থানা যুবদলের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় দলটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংহত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ করতেই তাৎক্ষণিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও সংগঠনের নীতি-আদর্শ বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ মেলার পর দিদারুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বাধীন রমনা থানা যুবদলের পুরো আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কেন্দ্র এখন বেশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম বরদাশত না করার যে বার্তা শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার দিচ্ছিল, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রমনা থানা। ফলে এই জোনের শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার এবং পুরো কমিটি বিলুপ্ত করার ঘটনাটি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি বড় ধরনের সাংগঠনিক বার্তা দেবে।
দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিলুপ্ত হওয়া রমনা থানা যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে এবং শূন্যতা পূরণে দ্রুতই সেখানে নতুন আহ্বায়ক কমিটি বা আহ্বায়ক দল গঠন করা হতে পারে বলে সংগঠনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের ত্যাগী ও সুশৃঙ্খল কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।


