এফএসআরইউর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ: তিতাস এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপের আশঙ্কা

এফএসআরইউর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ: তিতাস এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপের আশঙ্কা

জাতীয় ডেস্ক

একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রাজধানীসহ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতাধীন এলাকাগুলোতে গ্যাসের স্বল্পচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানায়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত একটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) জরুরি কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তিতাসের বিতরণ লাইনে, যার কারণে শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও আবাসিকসহ সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকতে পারে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের গ্যাস সংকটের সময়ে এলএনজি সরবরাহ একটি বড় ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানিকৃত তরল গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হয়। এর মধ্যে যেকোনো একটিতে কারিগরি ত্রুটি বা জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে দৈনিক সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায়। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হলে তিতাসের মতো বড় বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষে গ্রাহক পর্যায়ে স্বাভাবিক চাপ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিতাস গ্যাস কোম্পানির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগরী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, ধামরাই, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ। এই অঞ্চলগুলো দেশের প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে পরিচিত। ফলে গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে বস্ত্র, পোশাক খাত, রি-রোলিং মিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপশি আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নার কাজে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হতে পারে।

সাময়িক এই সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দ্রুত শেষ করে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে টার্মিনালটি পুনরায় পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হলে মধ্যরাতের পর থেকে গ্যাসের চাপ পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ