জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীতে দীর্ঘস্থায়ী ভ্যাপসা গরমের পর আচমকা দুই ঘণ্টার ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলজট। রবিবারের এই আকস্মিক বৃষ্টিতে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে অফিস ছুটির পর ঘরমুখী যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয় এবং তীব্র যানবাহন সংকটে পড়তে হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, রবিবার বিকেল চারটার পর থেকেই রাজধানীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় স্বল্প সময়ে এই পরিমাণ বৃষ্টিপাতকে ‘ভারী বর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আকস্মিক ও ভারী বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুতই নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি জমে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল পাঁচটার পর থেকেই ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, তেজতুরী বাজার, কাঁঠালবাগান, ধানমন্ডি এবং মিরপুরের কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া প্রধান সড়ক ও সংযোগকারী অলিগলিগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়। কোনো কোনো এলাকায় সড়কগুলোতে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যাওয়ায় গণপরিবহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। এর ফলে অফিস ছুটির পর বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা রিকশার খোঁজে শত শত মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। জলজটের কারণে সৃষ্ট যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর একটি বড় অংশ, যার প্রভাব বজায় ছিল রাত পর্যন্ত।
নগরের এই পরিস্থিতির বিষয়ে আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দেশে বর্ষাকাল চললেও মৌসুমি বায়ুর অবস্থান ও সক্রিয়তার তারতম্যের কারণে আবহাওয়ার এমন আচরণ দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চলে বেশি সক্রিয় রয়েছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে দেশের মধ্যাঞ্চলে এই বায়ু মাঝারি বা হালকা সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রতিদিন বৃষ্টি না হলেও, দুই-এক দিন পরপর বিচ্ছিন্নভাবে এমন ভারী বা মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তর আরও জানায়, গত দুই দিন ধরে ঢাকায় তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছিল। বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টিপাত না হলে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, যার ফলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। রবিবারের এই বৃষ্টির পর ঢাকার তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়ে আবহাওয়া সহনশীল পর্যায়ে এলেও, জলজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সংকটের কারণে তা নগরবাসীর জন্য স্বস্তির চেয়ে ভোগান্তিই বেশি তৈরি করেছে।
এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকার নিচু এলাকাগুলোর পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা না হলে পরবর্তী বৃষ্টিতে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


