দেড় দশকে দেড় কোটির বেশি কর্মীর বিদেশগমন, ফেরত আসাদের সঠিক তথ্য নেই

দেড় দশকে দেড় কোটির বেশি কর্মীর বিদেশগমন, ফেরত আসাদের সঠিক তথ্য নেই

জাতীয় সংসদ ডেস্ক

বিগত ২০০৪ সাল থেকে চলতি বছরের ১৬ জুন পর্যন্ত দুই দশকেরও বেশি সময়ে বাংলাদেশের ১ কোটি ৫০ লাখ ৭ হাজার ১২৯ জন কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশে গমন করেছেন। তবে তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ এরই মধ্যে কর্মসংস্থান শেষে দেশে ফিরে এসেছেন। বিদেশ ফেরত এই কর্মীদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকায় বর্তমানে বিদেশে ঠিক কতজন কর্মী কর্মরত আছেন, তার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদে উত্থাপিত তথ্যানুযায়ী, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডাটাবেজে ২০০৪ সাল থেকে বিদেশগামী কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেই পরিসংখ্যান থেকেই এই বিশাল সংখ্যক কর্মীর বিদেশগমনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বহির্গমনের হিসাব সঠিকভাবে রাখা হলেও, চুক্তি শেষে বা অন্যান্য কারণে দেশে ফেরত আসা অভিবাসীদের কোনো কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার এত দিন ছিল না। ফলে প্রবাসী কর্মীদের বর্তমান প্রকৃত সংখ্যা প্রাপ্তিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এই প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ফেরত আসা কর্মীদের সঠিক তথ্য আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সঙ্গে বিএমইটির একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের বিমানবন্দর ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও তা ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে প্রবাসীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈদেশিক শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভৌগোলিক ভূ-রাজনীতি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এখনো বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচিত। অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের মতো দেশগুলোতে কর্মরত রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, লেবানন ও সিরিয়াসহ সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী প্রেরণের হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও শ্রমবাজারের ওপর যেন দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। বিদ্যমান প্রধান শ্রমবাজারগুলোকে সুসংহত ও ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বিকল্প আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও কর্মী প্রেরণের প্রক্রিয়া জোরদার করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে সংসদে জানানো হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ