ঘানার রক্ষণ দুর্গে আটকে গেল টুখেলের ইংল্যান্ড, হতাশাজনক ড্রয়ের পরও শীর্ষে থ্রি লায়ন্সরা

ঘানার রক্ষণ দুর্গে আটকে গেল টুখেলের ইংল্যান্ড, হতাশাজনক ড্রয়ের পরও শীর্ষে থ্রি লায়ন্সরা

খেলাধুলা ডেস্ক

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে যে বাড়তি উন্মাদনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দ্বিতীয় ম্যাচেই তাতে কিছুটা ভাটা পড়ল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে আফ্রিকান পরাশক্তি ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে থমাস টুখেলের শিষ্যদের। পুরো ম্যাচে একচেটিয়া বল দখল ও আধিপত্য বজায় রেখেও ঘানার জমাট রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তিরা। তবে এই হতাশাজনক ফলাফলের পরও ইংলিশ শিবিরে বড় কোনো উদ্বেগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ৪ পয়েন্ট নিয়ে এখনো টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে তারা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধিরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ইংলিশ মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস জানান, এই ড্র সত্ত্বেও গ্রুপসেরা হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সমীকরণ এখনো তাদের নিজেদের হাতেই রয়েছে। প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে যে আক্রমণাত্মক ও গতিশীল ফুটবলের প্রদর্শনী ইংল্যান্ড দেখিয়েছিল, ঘানার বিপক্ষে তার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের কৌশলের কাছে একপ্রকার পরাস্ত হতে হয়েছে টুখেলের দলকে। ঘানা পুরো ম্যাচেই নিজেদের অর্ধে রক্ষণাত্মক কৌশল বা ‘লো ব্লক’ বজায় রেখে খেলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচের ৭৮ শতাংশেরও বেশি সময় বলের দখল ছিল ইংল্যান্ডের পায়ে। কিন্তু এই বিপুল আধিপত্য সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে কার্যকরী কোনো আক্রমণ বা সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় তারা।

ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ইংলিশদের আক্রমণভাগের কাছে তাদের রক্ষণ ভাঙার কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছিল না। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের এই অতি-রক্ষণাত্মক কৌশলের প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ডের ম্যানেজার থমাস টুখেল। তিনি উল্লেখ করেন, যখন কোনো দল ডি-বক্সের সামনে গভীর রক্ষণ তৈরি করে বসে থাকে, তখন নিখুঁত সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ঘানা এই গোলশূন্য ড্রকে এক প্রকার জয় হিসেবেই উদ্‌যাপন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিলেন অধিনায়ক ও মূল স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। পুরো ম্যাচেই ঘানার ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের বক্সে তিনি মাত্র দুইবার বল স্পর্শ করতে সক্ষম হন। ম্যাচের শেষভাগে একটি সহজ সুযোগ পেলেও তা লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়। উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনও এই ম্যাচে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে আক্রমণভাগে কিছুটা গতি ফেরান বুকায়ো সাকা। সাকার একটি জোরালো শট ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত না করলে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা, পরবর্তী ম্যাচে আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে বুকায়ো সাকা ও মার্কাস রাশফোর্ডকে শুরুর একাদশে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন কোচ।

সাবেক ফুটবলার ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘানার মতো দলের বিপক্ষে উইং দিয়ে আরও বেশি ক্রস করা উচিত ছিল, যা ইংল্যান্ডের বর্তমান একাদশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে মাঝমাঠে সৃজনশীল পাসের অভাবও ছিল স্পষ্ট। মরগান গিবস-হোয়াইট বা অ্যাডাম হোয়ার্টনের মতো মিডফিল্ডারদের দলে অনুপস্থিতি এই ম্যাচে বেশ ভালোভাবেই টের পাওয়া গেছে। দলের সাবেক অধিনায়কদের মতে, কোল পামার বা ফিল ফোডেনের মতো সৃজনশীল ফুটবলারদের অভাব ঘুচাতে আগামী পানামা ম্যাচে টুখেল একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন।

অবশ্য ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে নাটকীয় কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল ইংল্যান্ড। নিকো ও’রাইলির একটি হেড গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং পরবর্তী সময়ে মার্ক গেহির আরেকটি নিশ্চিত হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ঘানার ডিফেন্ডাররা।

বিপরীত দিকে, ঘানাও পেনাল্টির একটি জোরালো সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ম্যাচের শেষ দিকে ইংলিশ ডিফেন্ডার এজরি কনসা নিজেদের ডিবক্সে ঘানার ফরোয়ার্ড প্রিন্স কওয়াবেনা আদুকে ফাউল করলে পেনাল্টির দাবি তোলে আফ্রিকান দলটি। ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, ডিফেন্ডার বলের নিয়ন্ত্রণ না পেয়ে খেলোয়াড়কে আঘাত করেছিলেন, তবে রেফারি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় উভয় দলকে। এই ড্রয়ের পর ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষেই অবস্থান করছে ইংল্যান্ড। আগামী ম্যাচে পানামাকে পরাজিত করতে পারলেই গ্রুপসেরা হিসেবে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করবে থমাস টুখেলের দল।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ