আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দেশের আত্মরক্ষার জন্য অপরিহার্য এবং এ নিয়ে কোনো পরিস্থিতিতেই সমঝোতা বা আলোচনা করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাকিস্তান সফরকালে তিনি উল্লেখ করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতার মধ্যেই এ মন্তব্য সামনে এলো। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রেক্ষাপট ও সামরিক গুরুত্ব
১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় আকাশ প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণে তেহরান প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলে। পরবর্তীতে এই প্রযুক্তির পাল্লা ও নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ইরান থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মসূচিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করলে এর জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এই সংঘাতের পর থেকেই মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিষয়টি সামনে আসে।
কূটনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব
পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে রাখতে চেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলেছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যান্য দেশের সামরিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ইরানের এই অধিকারের প্রতি পরোক্ষ নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার একটি কৌশল। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পারমাণবিক বা আঞ্চলিক অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা চললেও দেশের মূল প্রতিরক্ষা কাঠামো কোনোভাবেই কূটনৈতিক দরকষাকষির অংশ হবে না। এই অবস্থান একদিকে যেমন ওয়াশিংটনের সাথে চলমান আলোচনাকে জটিল করতে পারে, অন্যদিকে তা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।


