মেসি-এমবাপ্পের গোলযুদ্ধ: বিশ্বকাপের নতুন ইতিহাস এবং এক অনন্য মহাকাব্য

মেসি-এমবাপ্পের গোলযুদ্ধ: বিশ্বকাপের নতুন ইতিহাস এবং এক অনন্য মহাকাব্য

ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল করার অনন্য রেকর্ডের মাধ্যমে। ২০২২ সালের লুসাইল ফাইনালের চার বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ফুটবলকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে গেছে। জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, আর তার পরেই অবস্থান করছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।

চলতি আসরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ক্লোসাকে পেছনে ফেলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। ২২ জুনের ম্যাচে এই কীর্তি গড়ার মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টিতে। তবে এই রেকর্ড নিয়ে বরাবরের মতোই নির্লিপ্ততা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। ম্যাচ শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় মেসি জানান, দীর্ঘ পথচলায় ক্লান্ত শরীরে তিনি এখন কেবল সতীর্থদের সাথে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উপভোগ করতে চান।

রেকর্ডের দৌড়ে মেসির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করছেন ২৬ বছর বয়সী কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলতি টুর্নামেন্টে সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইতিমধ্যেই ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। যেখানে মিরোস্লাভ ক্লোসা ১৬টি গোল করতে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছিলেন, সেখানে নিজের মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপেই এই মাইলফলকে পৌঁছালেন এমবাপ্পে। সাবেক পিএসজি সতীর্থ মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, লিও সবসময়ই গোল করার সামর্থ্য রাখেন এবং এই রেকর্ডটি এখন সম্পূর্ণভাবে তারই প্রাপ্য। নিজের ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলকে ট্রফি জেতানোই এখন তার মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও মেসিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দ্বিধা করেননি এই ফরাসি গতিদানব।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এবং প্রাথমিক নকআউট পর্বের এই সমীকরণ আগামী দিনগুলোতে আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে। ফাইনালের আগে দুই দলের সামনেই রয়েছে আরও ছয়টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, যেভাবে মেসি ও এমবাপ্পে গোল করা অব্যাহত রেখেছেন, তাতে টুর্নামেন্টের বাকি অংশে এই রেকর্ড আরও পুনর্লিখিত হতে পারে। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে যদি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স পুনরায় মুখোমুখি হয়, তবে তা হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দ্বৈরথ। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন উত্তর আমেরিকার মাটিতে ইতিহাস ভাঙা-গড়ার এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি দেখার জন্য।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ