নাটকীয় জয় দিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা

নাটকীয় জয় দিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা

খেলাধুলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে শেষ পর্যন্ত একটি আত্মঘাতী গোলের সুবাদে জয় তুলে নেয় লিওনেল মেসির দল। পুরো ম্যাচ জুড়ে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ৬৭তম দল কেপ ভার্দের লড়াকু ফুটবল এবং দু’বার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফেরার প্রচেষ্টা ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে।

শনিবার ভোরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অধীনের নেওয়ার চেষ্টা করে আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচের প্রথম নিশ্চিত সুযোগটি তৈরি করেছিল কেপ ভার্দেই। খেলার সপ্তম মিনিটে বক্সে ঢুকে দলটির অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস সুযোগ হাতছাড়া না করলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়তে পারত বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে প্রথম সফলতার মুখ দেখে তারা। নিজেদের অর্ধ থেকে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের একটি নিখুঁত দূরপাল্লার লং-বল প্রথম স্পর্শেই নিয়ন্ত্রণে নেন লিওনেল মেসি। এরপর দারুণ দক্ষতায় কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই ফুটবল মহাতারকা।

এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে একাধিক নতুন রেকর্ড গড়লেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০টি গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। একই সাথে বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) অন্তত ৭টি করে গোল করার বিশ্বরেকর্ডও নিজের করে নিলেন এলএমটেন।

এক গোলে পিছিয়ে পড়েও প্রথমার্ধের বাকি সময়ে এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমানতালে লড়াই চালিয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি। বিরতির পর খেলার ৫৪ মিনিটে প্রথমবার আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন দিরয় দুয়ার্তে। এর কিছু সময় পরই মেন্দেসের ক্রস থেকে সেই দুয়ার্তেরই নিচু শটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।

সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে মেসির শট, ৭৩ মিনিটে মেসির একটি ফ্রি-কিক এবং ৮১ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের নিশ্চিত হেড একের পর এক অসাধারণ সেভের মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেন তিনি। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার শেষ ১৩টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের মধ্যে ৭টিই অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই (৯২ মিনিটে) কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দূরের পোস্টে জোরালো শট নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। এটি জাতীয় দলের জার্সিতে এই ডিফেন্ডারের দ্বিতীয় গোল। তবে আর্জেন্টিনার এই উদযাপনের স্থায়িত্ব ছিল অল্প সময়। ম্যাচের ১০৩ মিনিটে মাক আলিস্টারকে কাটিয়ে বক্সের কোনা থেকে সিডনি লোপেজ কাবরালের নেওয়া ডান পায়ের দূরপাল্লার শট আর্জেন্টিনার জাল স্পর্শ করলে ম্যাচে আবারও ২-২ ব্যবধানে সমতা আসে।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ১১১ মিনিটে। লিওনেল মেসির একটি কর্নার থেকে বক্সে হেড নেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, তবে বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বারগেসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালের ভেতর জড়িয়ে যায়। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ৫ মিনিট আগে ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরার আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কেপ ভার্দে। তবে এবার ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক সেভে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। এই নাটকীয় জয়ের পর টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি আরও জোরালো করবে আলবিসেলেস্তেরা।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ