কূটনীতি ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠককালে সৌদি রাষ্ট্রদূত দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের একটি বিশেষ আনুষ্ঠানিক চিঠি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে যে সুদৃঢ় ও ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান, এই বৈঠকের মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তাটি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সৌদি ভিশন-২০৩০ (Vision 2030) এর আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও বৈঠকে আলোকপাত করা হয়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে দুই পক্ষই একমত পোষণ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ। বৈঠকে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুই দেশের এই সম্পর্ককে আগামী দিনগুলোতে আরও টেকসই ও বহুমুখী করার ওপর জোর দেন।


