স্পেনের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজের অবসর জল্পনা উড়িয়ে দিলেন রোনালদো

স্পেনের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজের অবসর জল্পনা উড়িয়ে দিলেন রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও স্পেন। তবে নকআউট পর্বের এই মহারণের চেয়েও ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পর্তুগিজ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসর প্রসঙ্গ। ম্যাচের আগের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও ৪১ বছর বয়সী এই তারকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত তার সমস্ত মনোযোগ স্পেনের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে। বিদায়ের সিদ্ধান্তটি তিনি সম্পূর্ণ নিজের সময়েই নিতে চান।

ডালাসের ঐতিহাসিক ভেন্যুতে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে এই দুই দল। এই ম্যাচটি হবে জাতীয় দলের জার্সিতে রোনালদোর ২৩৩তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসেও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবেই মাঠে নামবেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে তার ফর্ম ও বয়স নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা হলেও, মাঠের পারফরম্যান্স ও মানসিকতায় এখনও তরুণদের মতোই অনমনীয় পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড।

অবসর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রোনালদো অত্যন্ত পেশাদারত্বের সাথে জানান, অবসরের মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তিনি অন্য কারও চাপে বা প্ররোচনায় নেবেন না। যখন তিনি নিজে অনুভব করবেন যে ফুটবলকে আর দেওয়ার কিছু নেই, তখনই বিদায় বলবেন। এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের মতো একটি বড় টুর্নামেন্টের মাঝে দাঁড়িয়ে মাঠের বাইরের কোনো আলোচনাকে তিনি দলের ওপর প্রভাব ফেলতে দিতে চান না। তার মতে, ফুটবলকে তিনি নিজের সর্বস্ব দিয়েছেন এবং এই খেলাটির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি এখনও জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ স্তরের টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ওপর প্রবল মানসিক চাপ থাকে। তবে রোনালদো জানিয়েছেন, তিনি কোনো অতিরিক্ত চাপ নিজের ওপর নিচ্ছেন না। বরং ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি মুহূর্ত এবং প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করতে চান। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত নিজের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন যে, দলগত অর্জনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে তিনটি গোল করে তিনি দলকে অবদান রাখতে পেরেছেন।

চলমান বিশ্বকাপে পর্তুগালের পথচলা অবশ্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পায় পর্তুগিজরা। দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করার পর, গ্রুপের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার সাথে ড্র করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে তারা। এরপর শেষ ষোলোর কঠিন লড়াইয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছায় সাবেক ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। প্রতিটি ম্যাচেই দলের কৌশলগত উন্নতি এবং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের প্রতিপক্ষ স্পেন ফুটবল বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তারা উয়েফা ইউরো এবং নেশনস লিগের শিরোপা জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। রোনালদো নিজেও স্পেনকে এই ম্যাচের ফেভারিট হিসেবে মেনে নিয়েছেন। অতীতে স্পেনের বিপক্ষে রোনালদোর স্মরণীয় কিছু স্মৃতি রয়েছে, যার মধ্যে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক অন্যতম। যদিও স্প্যানিশদের বিপক্ষে তার সামগ্রিক গোলের সংখ্যা মাত্র চারটি, তবুও বড় ম্যাচে তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষ শিবিরের জন্য সবসময়ই বড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ।

স্পেনের আক্রমণভাগ ও মধ্যমাঠের শক্তিকে সমীহ করলেও পর্তুগাল দল মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন অধিনায়ক। নকআউট পর্বের ম্যাচে যে কোনো দলেরই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা থাকে, তাই দলগত সংহতি এবং রণকৌশলের সঠিক প্রয়োগই নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনকে হারাতে হলে পর্তুগালকে তাদের রক্ষণভাগ নিটোল রাখার পাশাপাশি কাউন্টার অ্যাটাক বা প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলতে হবে, যেখানে রোনালদোর ফিনিশিং দক্ষতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর ফুটবল ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ