হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে ইরানের তেল বিক্রির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে ইরানের তেল বিক্রির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পাশাপাশি তেহরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালানোর পর এর জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের এই হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এই ধরনের উসকানিমূলক আচরণের পরিণতি তেহরানকে ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালায়। এই ঘটনার জবাবে মঙ্গলবার রাতেই ইরানের মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে মার্কিন হামলায় ইরানের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো সূত্রে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এই সংঘাতের জেরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত জ্বালানি চুক্তিটি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর আগে উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জারি করা নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সেই সময়সীমা এক ধাক্কায় কমিয়ে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। নতুন নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টাপাল্টি হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৫ শতাংশ বেড়ে যায়, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ