দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব মিলিয়ে বর্তমানে হামের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা ৭৮০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৬৮৫ জন। সাম্প্রতিক সময়ের এই মৃত্যুসংখ্যা শিশুস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে শিশুটি মারা গেছে, সে ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হামের সংক্রমণ ও এর উপসর্গগুলো প্রকট আকার ধারণ করছে। একই সময়ে সারাদেশে ১৪০ জন নতুন রোগীর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২৪৪ জনে।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সন্দেহভাজন রোগীদের ক্ষেত্রেও। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৭৩ জনের শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ১১ জনে উন্নীত হয়েছে। মূলত যেসব অঞ্চলে টিকাদানের হার কম বা যেখানে জনঘনত্ব বেশি, সেসব এলাকাতেই এই ভাইরাসের বিস্তৃতি বেশি দেখা যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সঠিক সময়ে টিকার ডোজ সম্পন্ন না করলে বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে জটিলতা তৈরির ঝুঁকি থাকে। চলমান এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগ সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। পাশাপাশি, লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোল রুম সক্রিয় করা হয়েছে। যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে কেবল চিকিৎসার মাধ্যমে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, বরং গণটিকা কর্মসূচি সফল করার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হামের হাত থেকে শিশুদের সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ে টিকার দুটি ডোজ সম্পন্ন করা অপরিহার্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্যবিধির নিয়মগুলো মেনে চলার এবং আক্রান্ত শিশুদের বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাম পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ