জাতীয় ডেস্ক
চীনের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ প্রত্যাশার কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং একে আরও গতিশীল করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি অতীতে রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এই যোগাযোগ বজায় ছিল। বিএনপি চীনের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়, পাশাপাশি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
দেশের উন্নয়নে চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সোলার এনার্জি ও গ্রিন এনার্জি ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীনা প্রযুক্তির সহায়তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য সহায়ক হবে। এছাড়া বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধিতে চীনের কারিগরি শিক্ষা সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, দ্বিপাক্ষিক আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে উভয় দেশ পারস্পরিকভাবে লাভবান হতে পারে। আধিপত্যবিরোধী বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চীনের নেতৃত্ব ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে চীনের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রদূত।
আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে আগামী দিনে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জান মিল্লাতসহ বিশিষ্টজনেরা। বক্তারা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সামগ্রিকভাবে, এই আলোচনা সভা দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ রূপরেখার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


