ডেস্ক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে রবিবার পাঁচ দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে পৌঁছেছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সফরকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবেন। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিক থেকে তুরস্ক বর্তমানে বিশ্বে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদল তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার সুযোগ পাবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। সম্প্রতি দুই দেশ প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছে। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও সুসংহত করা এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।
সফরসূচি অনুযায়ী, সেনাপ্রধান তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময়, যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, তুরস্ক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর একটি এবং ন্যাটো জোটের অন্যতম সদস্য। দেশটির স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গত কয়েক দশকে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি, নৌযান নির্মাণ এবং সাঁজোয়া যান তৈরিতে তারা বিশ্বে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আধুনিকায়নের যে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তাতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সামরিক সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে নতুন গতি পেয়েছে। এই সফরে সেনাপ্রধানের অংশগ্রহণ দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকগুলো মূলত কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে সহায়ক হবে।
পাঁচ দিনের এই সফর শেষে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।


