শাপলা চত্বর সমাবেশ: ১৩ বছর আগের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় প্রসিকিউশন

শাপলা চত্বর সমাবেশ: ১৩ বছর আগের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় প্রসিকিউশন

 

আইন ও বিচার ডেস্ক

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তদন্ত সংস্থা থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র চূড়ান্ত প্রতিবেদন নয়, বরং প্রাথমিক খসড়া। বর্তমানে প্রসিকিউশন টিম এই খসড়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে।

খসড়া প্রতিবেদনে উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ খসড়া অবস্থায় রয়েছে। আমরা এটি পর্যালোচনা করছি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি জানার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের আইনজীবী দলের সঙ্গে মতবিনিময় করতে আসেন হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “হেফাজত নেতারা মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আমরা তাদের সাথে মতবিনিময় করছি। তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনি নিয়ম অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেওয়া সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে সারা দেশে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলোতে সে সময় বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে এই মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আসার বিষয়টি আইনি অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত সংবেদনশীল। ঘটনার অনেক সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল হতে পারে। প্রসিকিউশন এখন খসড়া প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যগুলো যাচাই করে দেখছে যাতে পরবর্তীতে আদালতে কোনো আইনি দুর্বলতা না থাকে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, খসড়া প্রতিবেদনের পর্যালোচনা শেষ হলে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আজকের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হেফাজত নেতারা মামলার সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

মামলাটির পরবর্তী আইনি ধাপ কী হবে, তা নির্ভর করছে তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর। বিচারিক নিয়ম অনুযায়ী, প্রসিকিউশন এই প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে উপযুক্ত মনে করলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণের জন্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করবে। এরপর আদালত আমলে নিলে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। দেশের উচ্চ আদালতে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে তা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।

বর্তমানে প্রসিকিউশন পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তদন্তের এই পর্যায়টি শেষ হলে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হলে শাপলা চত্বরের ঘটনার আইনি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ