ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর

পরিবেশ ডেস্ক

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

রবিবার সকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম মাঠে আয়োজিত “একটি শিশু একটি গাছ” শীর্ষক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন নয়; বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষা অপরিহার্য। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে গাছের কোনো বিকল্প নেই।

আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গাছের চারা রোপণ কেবল একটি সাধারণ কাজ নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ এবং দায়বদ্ধতা। সরকারের গৃহীত সবুজায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ ও তার পরিচর্যার মাধ্যমে এই জাতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গাছের মাধ্যমে মানুষ যেমন অক্সিজেন ও ছায়া পায়, তেমনি এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সুরক্ষা কবচ হিসেবেও কাজ করে। তাই পরিবেশের বিপর্যয় রোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বনায়ন কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকারের এই উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে তা কেবল পরিবেশগত ভারসাম্যই রক্ষা করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। “একটি শিশু একটি গাছ” কর্মসূচিটি তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ