অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা ডেস্ক
নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, জুয়া এবং সকল প্রকার অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য সমাজ বিনির্মাণে নৈতিকতা চর্চা এবং সন্তানদের সঠিক ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়া প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব।
শনিবার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশ আয়োজিত এক বিশেষ সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহ এবং স্থানীয় বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভাটি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এই আয়োজনকে কেবল একটি ইউনিয়নের জন্য নয়, বরং নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার প্রতিটি গ্রাম এবং পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একটি মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক পরিবেশে কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি বা সংঘাত সহ্য করা হবে না। নিজের নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর-২ আসনের জনগণের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘যারা মারামারি বা গ্রাম্য কাইজায় জড়াবেন, তারা আমার দলের বা ব্যক্তিগতভাবে যত কাছের লোকই হোন না কেন, কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
স্থানীয় সহিংসতা রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রাম্য সংঘাতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ঢাল-সড়কিসহ সকল দেশি অস্ত্র অবিলম্বে পুলিশের নিকট জমা দিতে হবে। সহিংসতা পরিহার করে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখলে শিক্ষার আলো দ্রুত প্রসারিত হবে এবং তরুণরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।
সভায় ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত এক মাসে ফরিদপুর জেলায় মোট ৩৫টি মারামারির মামলা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল ডাঙ্গী ইউনিয়নেই ঘটেছে ১০টি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, মারামারির অজুহাতে মহাসড়ক অবরোধ কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ সুপার স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কোনো প্রকার সামাজিক বিবাদ বা সংঘর্ষ হলে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম সাইয়াদুর রহমান বাবলু। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম এবং নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। এছাড়া ফরিদপুর জেলা ও নগরকান্দা উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভার একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল স্থানীয় দুই রাজনৈতিক নেতার বিরোধ মীমাংসা। নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুলের মধ্যস্থতায় ডাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রইস উদ্দিন চোকদার ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান তারা মোল্লার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। উপস্থিত জনসমক্ষে তারা আর কখনো সংঘাতের পথে না হাঁটার অঙ্গীকার করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদপুরের মতো এলাকায় সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের এ ধরনের সম্পৃক্ততা তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং সামাজিক ঐক্যের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা সফল হলে তা স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


