জাতীয় ডেস্ক
শনিবার রাতে নরসিংদীর মনোহরদীর গাংকুলকান্দী ভূঁইয়া বাজার মাঠ-সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক মেধাবৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং তাদের দোসরদের রাজনৈতিকভাবে বর্জন করা অপরিহার্য। নবদিগন্ত ক্লাব আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মা-বোনদের পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, সেই রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে দেশের স্বার্থেই বর্জন করতে হবে। তাদের প্রতিহত না করলে দেশের অগ্রযাত্রা ও অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অর্জিত এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এখনো চলমান। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সারা দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেবার মান বাড়াতে স্বাস্থ্যখাতে বৃহৎ পরিসরে নতুন জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
নবদিগন্ত ক্লাবের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোস্তাক আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন শাহীন মোড়ল এবং সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম ফরহাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্থানীয় ৪০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে তাদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য মেধাবৃত্তির ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন। বক্তারা এমন আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, মেধা বিকাশে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে। পরিশেষে, দেশ ও জাতির কল্যাণে শিক্ষার্থীদের মননশীল ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান বক্তারা।


