অপরাধ ডেস্ক
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। দীর্ঘ তদন্তের পর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দাখিল করেছে।
আজ রবিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরই অংশ হিসেবে তদন্ত সংস্থা কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনটি বর্তমানে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রতিবেদনের নির্ভুলতা নিশ্চিত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম জানান, হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ইতিমধ্যে খসড়া প্রতিবেদনটি প্রাথমিক পর্যালোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই মামলায় অভিযুক্তদের বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তাধীন খসড়া প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের তালিকা সংযোজন বা বিয়োজন করা হতে পারে।
নিহতদের সংখ্যার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাইব্যুনালের কাছে শাপলা চত্বরের ঘটনায় মোট ৬১ জন নিহতের একটি প্রাথমিক তালিকা ছিল। এর মধ্যে নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ওইদিনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া গতিশীল করতে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আইনি তৎপরতা শুরু হওয়া বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম উঠে আসা এবং এর স্বচ্ছ বিচার নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হলে তা ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, আইনি বিধিবিধান অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির বিচার কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


