শিক্ষা প্রশাসন ডেস্ক
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনস্থ সরকারি কলেজ ও দপ্তরে ‘এনাম কমিটি’র সুপারিশের পর সৃজিত বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের পদসমূহ ক্যাডার কম্পোজিশনে অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং পদোন্নতিসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সুসংহত করার লক্ষ্যে মাউশি অধিদপ্তর এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয়করণ বিধির আওতাভুক্ত কলেজসমূহ ব্যতীত অবশিষ্ট সকল সরকারি কলেজ ও দপ্তরে এনাম কমিটির পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদগুলোকে ক্যাডার কম্পোজিশনের আওতায় আনা হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পদগুলো ক্যাডার কম্পোজিশনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মাউশি অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য আহ্বান করেছে। নির্ধারিত ছক অনুযায়ী এই তথ্য পূরণ করে আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে অধিদপ্তরের ই-মেইল ঠিকানায় (dshepostcreation@gmail.com) পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগটি সফল হলে শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘদিনের পদ সংক্রান্ত অস্পষ্টতা দূর হবে এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের সঠিক মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
এর আগে গত ১৬ মার্চ একই উদ্দেশ্যে ক্যাডার কম্পোজিশনভুক্তকরণের জন্য তথ্য চাওয়া হয়েছিল। যেসব সরকারি কলেজ বা দপ্তর ওই সময়ে নির্ধারিত তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র মাউশি অধিদপ্তরের প্রথম ব্লকের ৫৩০ নম্বর কক্ষে উপ-পরিচালক (এইচআরএম) বরাবর সরাসরি হার্ডকপি আকারে জমা দেওয়ার জন্য পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। ক্যাডার কম্পোজিশনে পদগুলো অন্তর্ভুক্ত হলে পদায়ন নীতিমালায় শৃঙ্খলা আসবে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বয় বাড়বে। একইসাথে, কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে নির্ভুল তথ্য সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এই সময়সীমার পর আর কোনো তথ্য গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই তথ্য প্রেরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


