প্রশাসন ডেস্ক
সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড হিসেবে পরবর্তী পদায়নের লক্ষ্যে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের আরও ৪০ জন কর্মকর্তার চাকরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করেছে সরকার। মাঠপর্যায়ের ভূমি ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা ন্যস্ত করার ধারাবাহিকতা বজায় থাকল। এর আগে গত ২২ জুলাই একই পদায়নের জন্য প্রেষণে আরও ৫০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল।
জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে মাঠপর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের উদ্দেশ্যে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে অনতিবিলম্ব ভূমি মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী, ন্যস্ত করা কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে সরাসরি দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এর অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা প্রথমে ঢাকার ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (এলএটিসি) আয়োজিত ‘মৌলিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স’-এ অংশগ্রহণ করবেন। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের আধুনিক ভূমি আইন, ডিজিটাল ভূমি সেবা, ই-নামজারি, খাসজমি ব্যবস্থাপনা, অর্পিত সম্পত্তি এবং রেকর্ড সংস্কার সংক্রান্ত ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মচারীগণের পদায়ন নীতিমালা, ২০২২’ কঠোরভাবে অনুসরণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন উপজেলা ও সার্কেল ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পদায়ন করা হবে। নীতিমালার আলোকে কর্মকর্তাদের মেধা, জ্যেষ্ঠতা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক চাহিদা বিবেচনা করে এই পদায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি উপজেলা পর্যায়ে রাজস্ব প্রশাসন ও ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রধান নির্বাহী পদ। দেশের সার্বিক ভূমি প্রশাসনকে আধুনিকায়ন এবং সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় সহজে ভূমি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এসিল্যান্ডদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমানে ই-নামজারি ও ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম যেভাবে এগিয়ে চলছে, তাতে নতুন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন মাঠপর্যায়ের সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত এই উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন উপজেলার শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে এবং এতে করে দেশের সাধারণ ভূমিসেবা গ্রহীতারা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


