জাতীয় ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘মন্ত্রীর জুতা বহন করছেন পুলিশ কর্মকর্তা’ সংক্রান্ত একটি দাবিকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সম্প্রতি ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে জুতা নিয়ে হাঁটার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে মন্ত্রীর স্যান্ডেল বা জুতা বহন করার অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট শুক্রবার কক্সবাজার সদর থানাধীন বাহারছড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সময়ে ওই একই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। ধর্মীয় রীতি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে তিনি নিয়ম অনুযায়ী মসজিদের প্রবেশপথে নিজের জুতা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। নামাজ শেষ করে বের হওয়ার সময় তিনি নিজস্ব স্যান্ডেল বা জুতা নিজ হাতে নিয়ে বাইরে আসেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মসজিদের প্রবেশপথে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতাও রাখা ছিল। তবে পুলিশ কর্মকর্তা কেবল নিজের ব্যবহৃত জুতাই বহন করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছিল, ওই পুলিশ কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা বহন করছেন। পুলিশ বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই জাতীয় দাবি কেবলই একটি নিছক কল্পনাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রশাসনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই ধরণের অপপ্রচার চালিয়েছে। তথ্যের কোনো সত্যানুসন্ধান না করে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের সামিল।
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুল ও বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যেকোনো স্পর্শকাতর বা বিভ্রান্তিকর খবরের সত্যতা যাচাই করার গুরুত্ব অপরিসীম। এ ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়, যা সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পুলিশ প্রশাসন থেকে সাধারণ নাগরিক এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশের সকল স্তরের মানুষকে যাচাই-বাছাই ছাড়া যেকোনো বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও বা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে, কোনো প্রকার ভিত্তিহীন ও অসামাজিক তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও শেয়ার না করে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা ও সাইবার জগতে সঠিক তথ্য বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


