সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌকাডুবি: ৯৯৯-এর তৎপরতায় মাঝিসহ ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌকাডুবি: ৯৯৯-এর তৎপরতায় মাঝিসহ ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার

সারাদেশ ডেস্ক
সুন্দরবনের বাগেরহাট অংশের সিংহের টেক সংলগ্ন নদী এলাকায় একটি পর্যটকবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে মাঝিসহ মোট নয়জন যাত্রী পানিতে ভেসে থাকলেও জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর তাৎক্ষণিক সমন্বয়ে তাদের সবাইকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বাগেরহাট নৌ-পুলিশ ও মোংলা কোস্টগার্ডের যৌথ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করে।
আজ রবিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পরিদর্শক ও গণমাধ্যম কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, সুন্দরবন ভ্রমণকালে এক পর্যটকের ভাই ৯৯৯ নম্বরে জরুরি কল করে জানান যে, তার ভাইসহ মোট আটজন পর্যটক একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সুন্দরবনের গহীনে ঘুরতে গিয়েছেন। ভ্রমণের একপর্যায়ে বাগেরহাট সদর অংশের আওতাধীন সিংহের টেক এলাকায় তাদের বহনকারী নৌকার তলদেশ কোনোভাবে ফুটো হয়ে যায়। ফলে হু হু করে নৌকার ভেতরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে এবং নৌযানটি পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। নৌকার যাত্রীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ কল সেন্টারের সহায়তা কামনা করেন।
জরুরি কল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৯৯৯-এর দায়িত্বরত অপারেটর বিষয়টি বাগেরহাট নৌ-পুলিশ এবং মোংলা কোস্টগার্ডের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও উদ্ধারকারী উভয় বাহিনীর একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।
পরবর্তীতে মোংলা কোস্টগার্ড ও বাগেরহাট নৌ-পুলিশের সদস্যরা সিংহের টেক নদী এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মাঝিসহ পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকা আটজন পর্যটককে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তীরে এনে প্রাথমিক সেবা প্রদান করা হয় এবং নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নাপিতখালী এলাকা থেকে আটজনের একটি পর্যটক দল ইঞ্জিনচালিত একটি দেশীয় নৌকায় চড়ে সুন্দরবন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সুন্দরবনের জলসীমায় প্রবেশের পর বিভিন্ন দর্শনীয় এলাকা পরিদর্শনের সময় সিংহের টেক মোহনায় তাদের নৌকার তলা ফেটে যায়। অল্প সময়ের মধ্যে নৌযানটি জলমগ্ন হয়ে নিমজ্জিত হলে মাঝিসহ সবাই লাইফ জ্যাকেট ও নৌকার কাঠে ভর করে নদীতে ভাসতে থাকেন। কোনো বড় ধরনের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় পর্যটকদের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত নৌ-দুর্ঘটনা প্রায়শই পর্যটকদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। বিশেষ করে উপযুক্ত ফিটনেসবিহীন ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং সুরক্ষা সরঞ্জামের অপর্যাপ্ততা সুন্দরবনের দুর্গম অঞ্চলে ভ্রমণকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। নৌ-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন মৌসুমে অনিবন্ধিত ও ত্রুটিপূর্ণ নৌযানের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং প্রতিটি পর্যটকের জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে সুন্দরবনের মতো দুর্গম অঞ্চলে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর দ্রুত যোগাযোগ ও তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতার সমন্বয় জননিরাপত্তা রক্ষায় একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ