বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

 জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথপরিক্রমা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ ৪৮ বছরে পদার্পণ করেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বাণীতে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আস্থাকে দলটির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস হিসেবে অভিহিত করে একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
বাণীতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে বলে বাণীতে জানানো হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেષণে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রবর্তনের মাধ্যমে তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থা একদলীয় শাসনের দিকে মোড় নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম চালুর সুযোগ সৃষ্টি করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা ফিরিয়ে আনেন। এই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে জন্ম নেওয়া বিএনপি পরবর্তীতে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতাদের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের অবদানও বাণীতে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও মোহাচ্ছন্ন নেতৃত্বের কারণে দলটি দেশের grassroots বা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শক্ত ভিত্তি লাভ করে বলে উল্লেখ করা হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। বিশেষ করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং নারীশিক্ষার ব্যাপক প্রসারে অতীতের সরকারগুলোর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দলটি এখন একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
দলের বর্তমান নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনই বিএনপির মূল লক্ষ্য। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা অতীতেও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিগত দিনে গণতন্ত্র রক্ষার্থে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করা হয়।
ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা হিসেবে জানানো হয়েছে যে, জনগণের মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা হবে। দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাকে সম্বল করে বিএনপি সবসময় দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে বদ্ধপরিকর। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের পাশাপাশি দেশের আপামর জনসাধারণকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, যাতে একটি সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই যাত্রায় সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারেন।
জাতীয় রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ