আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যানিয়েল ড্রিসকল তাঁর পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা নীতিগত টানাপোড়েন ও মতপার্থক্যের জের ধরে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই শীর্ষ পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। হোয়াইট হাউস তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সোমবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ড্যানিয়েল ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সেনাবাহিনী বিভাগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও কর্মসূচি এগিয়ে নিতে ড্রিসকলের ভূমিকার প্রশংসা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের কাছে সেনাবাহিনীর রূপান্তর, আধুনিকায়ন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়ে নিজের বিভিন্ন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছিলেন ড্রিসকল। পাশাপাশি, এসব উদ্যোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বাধা সৃষ্টি করছেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল জেনারেলদের বরখাস্ত করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পিট হেগসেথের অধীনে পেন্টাগন থেকে বিদায় নেওয়া জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ড্যানিয়েল ড্রিসকল। এর আগে গত এপ্রিলে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া জুনে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহু পদ ছেড়ে দেন এবং একই সময়ে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানও পদত্যাগ করেন। ধারাবাহিক এসব পদত্যাগ ও বরখাস্তের ফলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে বড় শাখাটির শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ড্যানিয়েল ড্রিসকল মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কম খরচে আধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ এবং প্রতিরক্ষা খাতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে নানা সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এছাড়া প্রচলিত বৃহৎ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা করায় তিনি আলোচনায় আসেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ বন্ধে মস্কো ও কিয়েভের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসন তাঁকে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল। ইরাক যুদ্ধের এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ২০২০ সালের মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আইন স্কুলের সহপাঠী ও ঘনিষ্ট মিত্র হিসেবে পরিচিত।
ড্যানিয়েল ড্রিসকলের এই পদত্যাগের পর মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।


