ঢাকায় এনসিপির প্রার্থীদের আয়-সম্পদের বৈচিত্র্য

ঢাকায় এনসিপির প্রার্থীদের আয়-সম্পদের বৈচিত্র্য

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকা মহানগর ও জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আটটিতে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই আট প্রার্থীর বার্ষিক আয় ও মোট সম্পদে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য রয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের সম্পদ ও আয়ের পরিমাণে বড় ফারাক লক্ষ্য করা গেছে।

হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদ এবং ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী তারেক আহম্মেদ আদেল দুইজনই কোটিপতি। নাবিলা তাসনিদের বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা, এবং তাঁর ও স্বামীর নামে মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। তারেক আহম্মেদ আদেলের বার্ষিক আয় ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ১৪৮ টাকা, যার বড় অংশ আসে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়া বাবদ। তাঁর মোট সম্পদ প্রায় ৪ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পদে নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমাসহ দেড় কোটি টাকার বেশি রয়েছে। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তিনি প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা কর দিয়েছেন।

সম্পদের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলেও নিজের ও স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। এ প্রার্থীর নগদ অর্থ, গয়না ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের পাশাপাশি কোনো স্থাবর সম্পদ বা ঋণ নেই।

ঢাকায় এনসিপির আট প্রার্থীর মধ্যে চারজন হলফনামায় ব্যবসা পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন নাবিলা তাসনিদ, তারেক আহম্মেদ আদেল, এস এম শাহরিয়া ও আরিফুল ইসলাম। আরিফুল ব্যবসার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করেছেন। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে জাবেদ মিয়া আইনজীবী, দিলশানা পারুল ‘উন্নয়নকর্মী’, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘মার্কেটিং কনসালট্যান্ট’ এবং দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘পরামর্শক’ হিসেবে নিজেকে উল্লেখ করেছেন।

নারী প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-২০ ও ঢাকা-৫ আসনে নাবিলা তাসনিদ ও দিলশানা পারুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দিলশানা পারুলের আয়ের বড় অংশ বিদেশে চাকরি থেকে আসে; দেশে তাঁর কোনো আয়ের তথ্য নেই। তাঁর ও স্বামীর নামে কোনো স্থাবর সম্পদ বা যানবাহনের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

আয়ের দিক থেকে মধ্যম অবস্থানে রয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। অন্যদের মধ্যে জাবেদ রাসিনের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা, আরিফুল ইসলামের ৬ লাখ টাকা, এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

ঢাকায় এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম আয় দেখা গেছে ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী এস এম শাহরিয়ার। পেশায় ব্যবসায়ী শাহরিয়া হলফনামায় কোনো আয়ের তথ্য দেখাননি। তবে আয়কর রিটার্নে তিনি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার আয়ের তথ্য উল্লেখ করেছেন এবং ৫ হাজার টাকা কর দিয়েছেন। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর নামে কোনো স্থাবর সম্পদ, গাড়ি বা ইলেকট্রনিক পণ্য নেই।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে আট প্রার্থীর মধ্যে চারজন স্নাতকোত্তর, তিনজন স্নাতক এবং একজন এসএসসি পাস। বয়সের দিক থেকে ছয়জন প্রার্থী ৩৫ বছরের নিচে, একজন চল্লিশোর্ধ্ব এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব।

প্রসঙ্গত, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীসহ ১২ দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। তবে সমঝোতা প্রসঙ্গে দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১০ দিনে দলটির অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ