আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ধানমন্ডি থানার সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশের তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ বুধবার (১০ জানুয়ারি) আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার মূল বাদীসহ আহত ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ. আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জনকে আসামি করা হয়েছিল। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলা ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে ধানমন্ডি এলাকায় ফেরার পথে ৪ আগস্ট ধানমন্ডি ২৭-এর মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। একই ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট ৯ জন আহত হন। মামলার বাদী শরীফ তার ভাই সাহেদ আলীসহ এই ঘটনায় ১১৩ জনকে আসামি করেন। থানা পুলিশ তদন্তকালে চারজনকে গ্রেফতার করে। পরে মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়।
পিবিআই তদন্তে জানা যায়, মামলার ভুক্তভোগীসহ অন্যান্য আহতদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। পিবিআই কর্মকর্তারা সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং ঘটনাস্থলের আশেপাশের হাসপাতালগুলোতে চিঠি পাঠিয়ে প্রতিবেদন সংগ্রহের চেষ্টা করেন। বাদীকে নোটিশ প্রদান করা হয় তার ভাইকে থানায় হাজির করার জন্য। কিন্তু বাদী বা আহতদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, বাদীর মোবাইল নম্বর প্রায়ই বন্ধ থাকে। যদিও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর মাঝে মাঝে খোলা থাকলেও নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাদী শরীফ ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাতে ভুক্তভোগীকে হাজির করার এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হলেও সে তা প্রদান করেননি। মামলায় চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্যও উল্লেখ করা হয়নি।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পিবিআই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ১১৩ জন আসামি, যার মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে অব্যাহারের সুপারিশ করেছে।


