ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সরকারপন্থী সমর্থন মিছিলের প্রশংসা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সরকারপন্থী সমর্থন মিছিলের প্রশংসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত সরকারপন্থী মিছিলে অংশ নেওয়া নাগরিকদের প্রশংসা জানিয়েছেন। তিনি মিছিলকে বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে আমেরিকার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে মিছিলের ছবি শেয়ার করে বলেন, অংশগ্রহণকারীরা “খুব ভালো কাজ করেছে” এবং “দেশের ভেতরের বিশ্বাসঘাতক দালালদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছে।” তিনি আরও বলেন, ইরানের নাগরিকরা তাদের দৃঢ়তা ও জাতীয় পরিচয় প্রদর্শন করেছেন, যা শত্রুদের সামনে শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছে।

খামেনি বলেন, “এটি আমেরিকান রাজনীতিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যেন তারা প্রতারণা বন্ধ করে এবং বিশ্বাসঘাতক দালালদের ওপর নির্ভর না করে।” তার বক্তব্যে সরকারের পক্ষে দেশীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

মিছিলের পেছনের প্রেক্ষাপট হিসেবে দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উল্লেখযোগ্য। বৃহস্পতিবার রাতের তুলনায় শুক্রবারের সরকারপন্থী মিছিলের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য বড় ও ছোট শহরে শত শত হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

তেহরান থেকে প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, অনেক নাগরিক সংহতি এবং জাতীয় ঐক্যের ডাকের জবাবে মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, “মানুষের উপস্থিতি দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করেছে।” বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে এই মিছিলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

এছাড়া আসাদি জানান, মিছিলের উপস্থিতি নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত যেসব বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সরকার সম্ভাব্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপট ও বিদেশি চাপের প্রেক্ষাপটে এই সরকারপন্থী মিছিল রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের সমর্থন প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া দেশের ভেতরে জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ এবং নীতি প্রণয়নে মিছিলের প্রভাব পরিস্কারভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।

মিছিলে অংশ নেওয়া নাগরিকরা মূলত সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত এবং দেশীয় শত্রুদের প্ররোচনা প্রতিহত করার জন্য রাস্তায় নেমেছেন। এ ধরনের সমর্থনমূলক জনসমাবেশ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এই মিছিল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিদেশি চাপ এবং জাতীয় ঐক্যের একটি জটিল চিত্র তুলে ধরেছে, যা আগামী দিনে সরকারের নীতি নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ