আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ১৬ তম দিনে প্রবেশ করেছে। চলমান আন্দোলন কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়ার পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সরকারপন্থি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করে সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে এবং অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রীয় এঙ্গেলাব স্কোয়ারে সরকারের সমর্থনে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই ধরনের সমাবেশ ইরানের পূর্বাঞ্চলের কেরমান, জাহেদান ও বীরজান্দসহ কয়েকটি শহরেও আয়োজন করা হয়েছে। তবে দেশটির বিভিন্ন স্থানে সরকারবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিছু সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের সমর্থন দিচ্ছে এবং এসব দেশের সহায়তায় দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি আন্তর্জাতিক কার্গো ট্রাকের মধ্য দিয়ে ২৭৩টি অস্ত্র দেশে প্রবেশ করানোর সময় তা জব্দ করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া নিষিদ্ধ কুর্দি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত পাঁচ সদস্যের একটি সন্ত্রাসী চক্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদেশ থেকে পরিচালিত একটি বিরোধী চ্যানেলের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে আরও ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
বর্তমান বিক্ষোভের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়নের কারণে রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য শহরের গ্রান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে প্রতিবাদ শুরু করেন। এরপর তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে ডলার–রিয়াল বিনিময় হার ১ ডলারে ১ লাখ ৪৫ হাজার রিয়ালে পৌঁছেছে।
ইরানের সরকার এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে হতাহত ও গ্রেফতারের বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএন জানায়, আন্দোলনে কমপক্ষে ৫৪৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১০ হাজার ৬৮১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে বিক্ষোভের পরবর্তী ধারা। সরকারি সমাবেশ এবং প্রতিবাদ উভয়ই দেশে সামাজিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সংঘাতের নির্দেশক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।


