রাজনীতি ডেস্ক
সাম্প্রতিক এক জাতীয় মতামত জরিপে দেখা গেছে, যারা আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ যৌথভাবে পরিচালিত ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ। তিনি জানান, দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনে মোট ১১ হাজার ৩৮ ভোটারের ওপর ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ধাপে জরিপটি সম্পন্ন করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, আর ৮ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন বা ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করছেন না।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন দুর্নীতির বিষয়টি। ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে দুর্নীতি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। অপরদিকে, ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে ভোটের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখবেন। এছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাও ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভোটাররা।
জরিপে বলা হয়েছে, যারা আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন। একই সঙ্গে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেবেন। ১৩ শতাংশ ভোটার অন্য দলকে ভোট দেবেন, আর ২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।
মতামত জরিপে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দেবেন, ২৭ শতাংশ বিএনপি এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে সমর্থন করবেন। ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ প্রথমবারের ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
জাকারিয়া পলাশ আরও জানান, ভোটাররা এমন নেতাদের প্রতি আগ্রহী যাঁরা মানুষের কথা শোনেন এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা ব্যক্তিগত যোগ্যতার তুলনায় জনদরদি প্রার্থীকে বেশি পছন্দ করছেন। এছাড়া ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে দল ও প্রার্থী উভয়কে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। শুধু দলকে গুরুত্ব দেবেন ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শুধু প্রার্থীকে বিবেচনায় রাখবেন ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ভিজিটিং প্রফেসর ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসরিয়াল ফেলো এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের ভোট কোথায় যাবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের দিনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ভালো না হলে ৮ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন ভোটার ভোটকেন্দ্রে না যেতে পারেন, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সিআরএফের সহসভাপতি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাবুল হক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উৎসাহ দেখা গেছে। তবে ভোটপ্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, ব্যালট বাক্স নিরাপদ থাকবে কি না—এগুলো নির্বাচনের দিনে ভোটার উপস্থিতি নির্ধারণ করবে।
জরিপে দেখা গেছে, ভোটের ক্ষেত্রে ধর্মের গুরুত্ব আগের তুলনায় কমে এসেছে। অধিকাংশ ভোটার এখন দুর্নীতির বিষয়ক বিবেচনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা প্রার্থী ও দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কি না তার ওপর নির্ভর করছে।


