জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ শীর্ষক একটি সমন্বিত মহড়া সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হলে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা যাচাই করাই ছিল এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনের দিন সকালে একটি ভোটকেন্দ্রকে ঘিরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে—এমন একটি কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করে মহড়াটি পরিচালনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে স্থানীয় পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেনাবাহিনীর সহায়তা চায়।
এর পরপরই পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর একটি সশস্ত্র দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। মহড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল নিক্ষেপ, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি এবং সহিংস ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্ন করার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারের মাধ্যমে কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তরের একটি অনুশীলনও মহড়ার অংশ ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই মহড়ার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র দখল, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাস্তবভিত্তিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। বিশেষভাবে কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থা, তথ্য আদান-প্রদান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি এবং মাঠপর্যায়ে নির্দেশ বাস্তবায়নের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সমন্বয়ের কার্যকারিতাও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখবে। নির্বাচন কমিশন ও বেসামরিক প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। সেনাবাহিনী সূত্র আরও জানায়, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটার প্রেক্ষাপটে এবার আগাম প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোটকেন্দ্রে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়া রোধ করাই এসব মহড়ার প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ধারাবাহিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর আগে ও বর্তমানে এ ধরনের মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মাঠপর্যায়ে বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি তৈরি করে এসব অনুশীলনের মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা আরও উন্নত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এসব প্রস্তুতি নির্বাচনকালীন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


