মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত, সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে উদ্যোগ

মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত, সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে উদ্যোগ

 

বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে একটি সুসংগঠিত যাচাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। এ লক্ষ্যে জামুকার সদস্যদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যমান তালিকায় কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপটকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বা বিভ্রান্তি দূর করে সঠিক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে নির্ভুল তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন জরুরি। এ ক্ষেত্রে গবেষণা, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশের ওপর জোর দেওয়া হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে এ কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সভায় জামুকার সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ কার্যক্রমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং তথ্যসংগ্রহ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য দলিল, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং সরকারি নথির সমন্বিত যাচাই প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটিগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়।

উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ কার্যক্রম গত কয়েক বছরে একাধিকবার পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে গেছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ ওঠে যে, কিছু ক্ষেত্রে অপ্রকৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ পড়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পর্যায়ক্রমে যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করে। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য ইতিহাস সংরক্ষণে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন শুধু সম্মান ও স্বীকৃতির বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা এবং ইতিহাস সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ