জাতীয় ডেস্ক
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশের খেলাধুলা উন্নয়নের জন্য বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। তিনি প্রধানত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনাময় খেলার দিকে নজর দিচ্ছেন এবং স্কুল পর্যায়ে পাঁচটি খেলাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করছেন।
গতকাল ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাধুলার উন্নয়ন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কল্যাণ এবং অবকাঠামোগত সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আন্তর্জাতিক সাফল্যের ভিত্তিতে আর্চারি, শ্যুটিং ও হকি খেলাগুলোর সম্ভাব্যতা বিষয়েও মত প্রকাশ করেছেন তিনি। স্কুল পর্যায়ে খেলাগুলোর নির্বাচনে সরঞ্জামের সহজলভ্যতা বিবেচনা করে ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট এবং দাবারের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব দ্রুতই বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় গেমস, অলিম্পিকসহ আন্তর্জাতিক আসরে সাফল্য অর্জনের জন্য খেলাগুলো বাছাইয়ে অতীতের রেকর্ড, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিবেচনায় নেওয়া হবে।
স্কুল পর্যায়ে পাঁচটি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সাবেক খেলোয়াড় ও কোচদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সাবেক খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রতিমন্ত্রী আলোচনায় এনেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার ও ফেডারেশনের সহায়তায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এই প্রক্রিয়ায় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের সহযোগিতা নেয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং আগামী দুই দিনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে।
খেলার অবকাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী জানান, বড় ধরনের স্থাপনা নয়, বরং খালি জায়গা ব্যবহার করে মানসম্পন্ন মাঠ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্কুলের মাঠগুলো এলাকার সব শিশুর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজনেরও পরিকল্পনা করছেন তিনি।
জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করার বিষয়ে সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এতে ক্রীড়া সংস্থাগুলোর বরাদ্দ বৃদ্ধির এবং সংস্থার সভাপতিকে জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করার সম্ভাবনা আলোচনা করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকাণ্ডেও নজর রাখা হবে এবং অন্তত ক্রীড়া পরিচালক পদে সাবেক কৃতী খেলোয়াড়দের নিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।
প্রতিমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুসারে, খেলাধুলার এই সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার সম্প্রসারণ, সাবেক খেলোয়াড় ও কোচদের কর্মসংস্থান, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো এবং মানসম্পন্ন মাঠ নির্মাণ এসব উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের স্থায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক সাফল্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


