আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে নতুন নিয়োগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে নতুন নিয়োগ

 

আইন আদালত ডেস্ক

সরকার সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ শাখা থেকে জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (ACT NO. XIX OF 1973) এর Section 7 অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য মো. আমিনুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগসংক্রান্ত পূর্ববর্তী আদেশ বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলো পরিচালনা করে থাকে। চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনা, মামলাগুলোতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুনানি উপস্থাপন এবং মামলার সময়সীমা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিফ প্রসিকিউটরের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যেই দেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধ মামলাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে পরিচিত। নতুন চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনালের চলমান মামলা এবং নথি যাচাই প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, ট্রাইব্যুনালের কাজের স্বচ্ছতা ও বিচারিক কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য চিফ প্রসিকিউটরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক পরিবর্তন উভয়ই দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর মনোযোগী পর্যবেক্ষণ তৈরি করেছে।

প্রজ্ঞাপনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে, মো. আমিনুল ইসলামের নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার দায়িত্ব এখন তার হাতে রয়েছে। এই পদোন্নতি দেশের আইন আদালতের কাঠামো এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সমর্থন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ