আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জংকে পূর্ণ বিভাগীয় পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে। একই কংগ্রেসে কিম জং উন আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালা ও উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণ করেছেন। এই খবর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে।
কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম ইয়ো জং পূর্বে একজন উপবিভাগীয় পরিচালক ছিলেন এবং এবার তাকে দলের প্রচার বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রচার বিভাগের মূল কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আন্তঃকোরীয় সম্পর্ক তদারকি, বিদেশ নীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত যোগাযোগের তত্ত্বাবধান।
ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ সম্মেলন প্রতি পাঁচ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে দেশের কূটনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়। কংগ্রেসে হাজার হাজার দলের সদস্য রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার কংগ্রেসে কিম জং উনকে পুনর্নির্বাচিত করা হয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টির মহাসচিব হিসেবে। এর ফলে তার নেতৃত্বের মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং ক্ষমতার ওপর তার নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হয়েছে। কিম ইয়ো জং দীর্ঘদিন ধরে তার ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে জন্মগ্রহণ করেন এবং সুইজারল্যান্ডে শিক্ষাজীবন কাটান।
২০১১ সালে কিম জং উনের বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর কিম জং উন ক্ষমতায় আসেন। তার নেতৃত্বাধীন সময়কালে কিম ইয়ো জং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক মর্যাদায় উন্নীত হন। ২০১৮ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সফরে অংশ নেন, যা তার আন্তঃকোরীয় সম্পর্ক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
কেসিএনএ মঙ্গলবার জানিয়েছে, কিম ইয়ো জংয়ের পদোন্নতি এমন সময় এসেছে, যখন কিম জং উন আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতি সুসংহত ও উন্নত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি এই সময়কালকে ‘পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতির পর্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে চিন্তাধারা, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক উন্নয়নের আহ্বান জানান।
এছাড়া কেসিএনএ নিশ্চিত করেছে, চীনের রাষ্ট্রপতি শি চিনপিং কিম জং উনকে দলের মহাসচিব হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদোন্নতি এবং পরিকল্পনা কিম জং উনের ক্ষমতা সংহতকরণ এবং উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
কিম ইয়ো জংয়ের প্রভাব বৃদ্ধির ফলে পার্টির ভিতরে তার রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ভূমিকা আরও প্রাধান্য পাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার কূটনীতি, প্রচার নীতি এবং আন্তঃকোরীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


