মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি ও ত্যাগের নতুন নির্দেশনা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি ও ত্যাগের নতুন নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মঙ্গলবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি এবং অফিস ত্যাগের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। চিঠি অনুযায়ী, সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য অবগত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’-এর প্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকা এবং অফিস ত্যাগের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সকল দপ্তর ও সংস্থাকে এ নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে অফিস ত্যাগের জন্য স্ব স্ব কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে বাধ্য থাকবেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অফিস কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি সেবার সঠিক সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও দায়িত্বের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা সরকারি সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোতে দায়িত্বশীলতা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া, অফিস ত্যাগে অনুমতি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ হলে প্রশাসনিক কাজে কোন রকম বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

গত কয়েক বছরে সরকারি অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি ও অনুমোদনহীন কর্মস্থল ত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিয়মিত নির্দেশনা জারি করে থাকে। এবারও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এই নির্দেশনা জারি করা হলো।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দেশনার কার্যক্রম মনিটর করার জন্য জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের নিয়মিত প্রতিবেদন প্রদান করতে হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্ব স্ব দপ্তরে অনুপস্থিতি বা অফিস ত্যাগের ক্ষেত্রে নিয়মিত রেকর্ড রাখতে বাধ্য থাকবেন।

সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা কার্যকর হলে কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ