বিএনপি প্রতিহিংসা নয়, বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী: ড. আবদুল মঈন খান

বিএনপি প্রতিহিংসা নয়, বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী: ড. আবদুল মঈন খান

 

রাজনীতি ডেস্ক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং বহুদলীয় ও পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। তিনি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশে বিএনপি একটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়। ড. আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলার সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষের প্রতিরোধের আদর্শ আমাদের দলের মূল বিশ্বাস। আমরা সেই আদর্শ ও পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। একদলীয় বাকশাল শাসনের ধারণা বিএনপি কখনো মেনে নেবে না।”

তিনি আরও জানান, নরসিংদীর চারটি আসনের বিএনপির সংসদ সদস্যরা—নরসিংদী-১ আসনের খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ আসনের সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্য মন্ত্রী) এবং নরসিংদী-৫ আসনের আশরাফ উদ্দিন—নরসিংদী-২ আসনের সাংসদ আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

প্রশ্ন করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ বিভিন্ন এলাকায় অফিস খুলছে এবং দেশের গণহত্যাকারীরা ফিরে আসছে—এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী। ড. আবদুল মঈন খান জবাবে বলেন, “আমাদের দলীয় অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী। আমরা সকলকে নিয়ে রাজনীতি করি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের নেতা তারেক রহমান এ বিষয়ে বারবার স্পষ্টভাবে বক্তব্য দিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “আমরা আইনের শাসনে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আমরা বারবার ফিরিয়ে এনেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার যে আন্দোলন হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। এই গণতন্ত্র এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

ড. আবদুল মঈন খানের এই বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতি দলের প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই অবস্থান ভবিষ্যতে দলের কৌশলগত কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দলটি উল্লেখ করেছে যে, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের শক্তির ভিত্তিতেই তারা দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং সমীকরণগুলো বহু দিক দিয়ে জটিল। বিএনপির এই বার্তায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থান ও নীতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলটি নিজের আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে ভবিষ্যতের কার্যক্রমে এগোতে চায়।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ