আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। সরকারি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় ইরান সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তার কন্যা, জামাতা ও নাতি রয়েছেন। ঘটনার পর রাজধানী তেহরান, জন্মশহর মাশহাদসহ বিভিন্ন শহরে শোকাহত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। বিভিন্ন স্থানে শোক মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অল্প সময়ের মধ্যে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেবে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার কথা জানানো হয়েছে।
শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ইরান দাবি করেছে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে হামলায় অন্তত ১০৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২৪টি প্রদেশে পৃথক হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতা দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, যিনি সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ইরানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
খামেনির মৃত্যুর পরবর্তী নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্যকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষমতা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। ইরান ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। একইসঙ্গে তেলবাজার, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশ্ব সম্প্রদায় নজর রাখছে।


