জাতীয় ডেস্ক
আজ সকালে রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি জানান, আগামী মাসের মধ্যে কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। অনুষ্ঠানে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে ৩৭ হাজার নারীর সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই কৃষক কার্ডের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যে তা কার্যকর করা হবে।
তিনি আরও জানান, সরকারের নীতি অনুযায়ী, কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য আগের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে কৃষি ঋণ মওকুফ করাও অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি সরকার ১০ হাজার টাকার পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম কৃষি সেক্টরে সরকারের সহায়তা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা, ঋণ সুবিধা এবং কৃষি সংক্রান্ত সহায়তা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য, কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করার মাধ্যমে দেশের কৃষক সম্প্রদায়ের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনা হবে। তিনি জোর দেন, যে কোনো মূল্যে এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে কৃষকদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকরা সরকারি অনুদান, ঋণ সুবিধা এবং বিভিন্ন কৃষি সহায়তা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ উদ্যোগ কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য, কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সরকার জানিয়েছে, আগামী মাসের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী পুনরায় আশ্বাস দেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষক কার্ডও কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য কার্যকরভাবে বিতরণ করা হবে এবং এতে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।


