বাংলাদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তিনি স্পিকার পদে বিজয়ী হয়েছেন।
সংসদে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম স্পিকার পদে প্রস্তাব করা হয় এবং ভোটাভুটিতে সব সদস্য সমর্থন জানান। এরপর ডেপুটি স্পিকার পদে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করা হয়, যা সমর্থিত হয়ে তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সরকারি সেবা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন নেতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খ্যাত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে তিনি পাটমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ৮১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীকালে আন্দোলন–সংগ্রামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র রক্ষায় অবদান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলা বিএনপির লক্ষ্য এবং এটি সম্পূর্ণরূপে দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্পিকার নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সংসদে উপস্থিত সব দলের সদস্যরা তাকে সমর্থন প্রদান করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রশাসনিক দায়িত্বের স্বচ্ছতা এবং জাতীয় রাজনৈতিক সহমর্মিতা দৃঢ় হবে। স্পিকার হিসেবে তার নেতৃত্বে সংসদ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সময়কাল প্রায় পাঁচ দশক এবং তিনি নানা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক দীক্ষা সংসদীয় কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা এবং সংলাপ বাড়াবে।
তৎকালীন অধিবেশনে সংসদে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় প্রয়োজনে সমন্বয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদের বিভিন্ন কমিটি ও কার্যক্রম পরিচালনায় তার নেতৃত্ব কার্যকর হবে।
এভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হচ্ছে। হাফিজ উদ্দিন আহমদের নির্বাচনের ফলে সংসদে বিরোধী ও সমর্থক দলসহ সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও রাজনৈতিক সমন্বয় আরও দৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


