অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে এবং এটি আগামী বছরও এমন উচ্চ স্তরে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ পথ হরমুজ প্রণালীর দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ২০ দিনের বেশি সময় কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক তেল বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তবে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ ১৪৭ ডলারের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের চতুর্থ প্রান্তিক নাগাদ জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারে স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী উচ্চমূল্য জ্বালানি তেলের কারণে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও উপভোক্তাদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এ ধরনের মূল্যস্ফীতি সরকারি ও ব্যক্তিগত বাজেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন খাতেও জ্বালানির চড়া দাম প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এ ধরনের অস্থিরতা গত কয়েক বছরে নানা সময় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উৎপাদনকারী দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে সরবরাহ ঝুঁকি কমানো যায় এবং বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
গোল্ডম্যান স্যাকসের এ সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, পেট্রোলিয়াম খাতের প্রতিষ্ঠান এবং নীতি নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী বছর তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সঙ্কটের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলা করা যায়।


