জাতীয় ডেস্ক
সচিবালয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় দেশের চলমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তেলের সরবরাহ ঘাটতি সমাধানসহ জ্বালানি সংকট মোকাবেলার বিভিন্ন উপায় পর্যালোচনা করা হয়। চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ চেইনে অসংগতি সৃষ্টি হওয়ার কারণে ঈদের আগেও মন্ত্রিসভার দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে তেল রেশনিংসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।
এই বৈঠকে ঈদের পর তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থায় অসংগতি, পাম্পে তেলের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক অভাব দূর করার উপায় নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কর্মকর্তারা সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং বাজারে তেলের সুষম সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য করণীয় কর্মসূচি প্রণয়নের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রায় প্রতি লিটারে ৯০ টাকা হারে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিমান খাতের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি যাত্রীভাড়া ও মালবাহী সেবার খরচেও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপ এবং পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখার পরিকল্পনা দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় জ্বালানি উৎপাদন, আমদানি, রফতানি এবং বিতরণ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে মনিটরিং বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি তেলের হোল্ডিং ও মজুদ ব্যবস্থাপনার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার কথাও আলোচনা করা হয়। কর্মকর্তারা জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়মিত মূল্যায়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব পেশ করেন।
সরকারের এই পদক্ষেপগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণে স্থিতিশীলতা আনা, বাজারে হঠাৎ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং যাত্রী ও সাধারণ জনগণের জন্য সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দেশের জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিক অবস্থার পুনরুদ্ধার সম্ভব।


