খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

জাতীয় ডেস্ক

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীকে অতিরিক্তভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনের ফলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এখন থেকে কেবল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে খাদ্য খাতের নীতি নির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্ব এখন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত হলো। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যেই এই পুনর্বণ্টন করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, মজুত ব্যবস্থাপনা, খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও বিতরণসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য অস্থিরতা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকিমূলক খাদ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব পরিবর্তনের ফলে চলমান কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। কারণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ, গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক তদারকি কার্যক্রমে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন হয়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী একই সঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকি করায় প্রশাসনিক সমন্বয় আরও সুসংহত হতে পারে।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদের সামগ্রিক কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ২৩ জন। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সমমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন, যারা বিভিন্ন খাতে নীতি নির্ধারণে সহায়তা করে থাকেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মন্ত্রিপরিষদের এ ধরনের পুনর্বিন্যাস সাধারণত প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, কাজের গতি ত্বরান্বিত করা এবং নীতিগত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে করা হয়। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন আনা হয়ে থাকে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, খাদ্যশস্য উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি নীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে খাদ্যশস্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে যে, দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় আরও গতিশীলতা আসবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ