দেশনেত্রীর স্নেহ ও আর্শীবাদ আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল

দেশনেত্রীর স্নেহ ও আর্শীবাদ আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রীর স্নেহ ও আর্শীবাদ তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। দেশনেত্রী তাকে একজন সাধারণ মাঠকর্মী থেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উন্নীত করেছেন এবং সর্বদা সঠিক পথ দেখানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করেছেন। মহাসচিব বলেন, “দেশনেত্রীর আর্শীবাদ ও আস্থা নিয়ে পথ চলতে গিয়ে দেখেছি, তিনি সবসময় আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, যাতে ভুল পথে পরিচালিত না হই।”

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে তিনি হাসপাতালে তার সংস্পর্শে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশনেত্রীর কাছাকাছি থাকা এবং তাঁর মৃত্যুর আগে সামান্য হলেও সহায়তা করার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। একই সঙ্গে মহাসচিব উল্লেখ করেন, “এ ধরনের মহান নেত্রীর জীবনের শেষ সময়গুলোতে সংস্পর্শে থাকা একই সঙ্গে ভীষণ কষ্টকরও ছিল।”

বিএনপির স্থায়ী মহাসচিব দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দলের অবস্থান নিয়েও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের সংগ্রামের পর জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। এই সংগ্রামে অসংখ্য নেতা ও কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং দলের ওপর ন্যায্য বা অন্যায়ভাবে মামলা হয়েছে। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ এবং কারাগারে রাখা হয়েছিল। এছাড়া বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে দীর্ঘদিন নির্বাসিত রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, এই সংগ্রামের ইতিহাস পেছনে ফেলে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব পালন একটি জটিল প্রক্রিয়া।

মির্জা ফখরুল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দলের লক্ষ্য নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জনগণের দাবি ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম দলের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার মূল ভিত্তি হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করতে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়াসার এমডি ও কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ারকে দুর্নীতির দায়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও শক্ত হাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মির্জা ফখরুল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যনিষ্ঠতা নিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী খুবই কার্যনিষ্ঠ এবং তিনি সাধারণ মানুষের কাতারে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। দেশের কল্যাণে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলের নেতৃত্ব জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করা হবে।

মোটকথা, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে বিএনপির অতীত সংগ্রাম, বেগম খালেদা জিয়ার অবদান, বর্তমান সরকারে দলের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ