১৩৩ অধ্যাদেশ আপাতত বহাল, গণভোট অধ্যাদেশ অকার্যকর: আইনমন্ত্রী

১৩৩ অধ্যাদেশ আপাতত বহাল, গণভোট অধ্যাদেশ অকার্যকর: আইনমন্ত্রী

আইন আদালত ডেস্ক

বিশেষ কমিটির পর্যালোচনার পর আপাতত ১৩৩টি অধ্যাদেশের কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বর্তমানে তামাদি বা অকার্যকর হয়ে গেছে এবং এর অধীনে অনুষ্ঠিত গণভোটের কার্যকারিতাও শেষ হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার অধ্যাদেশগুলো সরাসরি বাতিল না করে একটি নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। বিশেষ কমিটির আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এসব অধ্যাদেশ পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গণভোট অধ্যাদেশের প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে তার আইনি কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর অধীনে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটিও সম্পন্ন হওয়ায় বর্তমানে অধ্যাদেশটির আর কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। ফলে এটিকে নতুন করে বিল আকারে সংসদে পাস করার প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি।

আইন প্রণয়ন, সংশোধন বা বাতিলের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি জানান, বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো অধ্যাদেশগুলোকে বিল আকারে প্রণয়ন করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠাবে। আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই শেষে সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় সংসদ। পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন আগামী ২ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে এবং প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

যেসব বিল শেষ পর্যন্ত সংসদে অনুমোদন পাবে না, সেগুলোর আইনি পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন, অনুমোদন না পাওয়া বিলগুলো তামাদি হয়ে যাবে। তবে বর্তমানে কতগুলো অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে বা শেষ পর্যন্ত কতগুলো বাতিল হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিভিন্ন আইন, বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশন গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, এসব বিষয় বিশেষ কমিটির পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা থাকবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় একটি কাঠামোবদ্ধ ও পর্যালোচনাভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিদ্যমান অধ্যাদেশগুলোকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক ও কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ