সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ও গণভোট ইস্যুতে প্রশ্ন তুললেন জামায়াত এমপি

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ও গণভোট ইস্যুতে প্রশ্ন তুললেন জামায়াত এমপি

 

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন ও নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রশংসা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এ বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সংসদে প্রদত্ত বক্তব্যে মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বাবা ও মা উভয়েই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন এবং তিনি নিজেও নির্বাসন থেকে ফিরে অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাসন থেকে ফিরে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনা বিরল। অতীতে এশিয়ার কিছু নেতার ক্ষেত্রেও অনুরূপ পরিস্থিতি দেখা গেলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে সময়ের দিক থেকে তা আরও সংক্ষিপ্ত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক যাত্রাকে “ব্যতিক্রমধর্মী” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বক্তব্যে সংসদের বর্তমান কাঠামো নিয়েও মন্তব্য করেন মাহবুবুল আলম সালেহী। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে এমন সদস্য রয়েছেন যারা নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কারও ক্ষেত্রে কারাবাস, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ফিরে আসার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া একজন নারী সদস্য তার পরিবারের প্রতিনিধিত্ব বহন করে সংসদে এসেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব বিষয় সংসদের বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রকে প্রতিফলিত করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিনি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও গণভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি দল তাদের ঘোষণাপত্রে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট আয়োজনের বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, গণভোটে ‘জুলাই সনদ’-সংক্রান্ত প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার সমর্থন জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোটার সমর্থন প্রদান করেন। এ অবস্থায় সরকারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “জনগণের স্পষ্ট রায় থাকার পরও কেন সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে সরে আসছে?”

এদিকে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা এবং রাজনৈতিক প্রসঙ্গ উত্থাপনকে ঘিরে সমালোচনাও দেখা গেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের সময়কে দেশের জনগণের স্বার্থে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে দেওয়া এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত। একদিকে বিরোধী দলের একজন সদস্যের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানের প্রশংসা, অন্যদিকে একই বক্তব্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে প্রশ্ন তোলা—দুই দিকই দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অবস্থান ভবিষ্যতে আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ