আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উত্তর ইসরায়েলের শহর হাইফারের একটি তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার কিছু সময় পর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানায়, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠে, যা স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ফুটেজ হিসেবে প্রচারিত হয়েছে।
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণ বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তবে, ইরান থেকে ছোড়া একঝাঁক নতুন ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পরপরই তেল শোধনাগারটিতে ধোঁয়া দেখা দেয়। হামলার পর উত্তর ইসরায়েলের ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীদের পাঠানো হয়েছে।
উভয় দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরায়েলও ইরান লক্ষ্য করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে বলে দাবি করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেহরানে কয়েক ডজন অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, বিশেষ করে দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী একটি কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, ইরানের খন্দাবে অবস্থিত ভারী পানি উৎপাদন প্ল্যান্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শুক্রবারের হামলার পর এটি কার্যত অকেজো হয়ে গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, ওই স্থাপনাটি পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
সাম্প্রতিক এই হামলা ও প্রতিহামলার ঘটনায় ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল করতে পারে এবং সন্ত্রাসবিরোধী ও সামরিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াতে পারে। এছাড়া, তেল শোধনাগার ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরমাণু স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্র বলছে, উভয় দেশই আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখার জন্য তাদের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের হামলা ও প্রতিহামলা দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট আরও গভীর করতে পারে।


